— ফিল্ড নোট নং 10 —
গন্ডোয়ানা: ডাইনোসরদের পৃথিবীতে দক্ষিণের মহাদেশগুলো
সংক্ষেপে উত্তর
দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, অ্যান্টার্কটিকা, অস্ট্রেলিয়া আর ভারতীয় উপমহাদেশকে ভাঙা থালার টুকরোর মতো জুড়ে দিন, পেয়ে যাবেন গন্ডোয়ানা। এর ভাঙন শুরু হয় জুরাসিক যুগে, প্রায় 180 মিলিয়ন বছর আগে, আর চলে 100 মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে। অস্ট্রেলিয়া আর অ্যান্টার্কটিকা পুরোপুরি আলাদা হয় ডাইনোসরদের বিলুপ্তির পরে। মহাদেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গে দূরে সরে যেত তাদের বাসিন্দারাও।

প্রাচীন মানচিত্র কী দেখায়
প্রাচীন পৃথিবীর মানচিত্র খুলে দেখুন: চেনা মহাদেশগুলোকে সেখানে প্রায় চেনাই যায় না। আজকের উপকূলরেখা সোজা অতীতে বসিয়ে দেওয়া যায় না। সমুদ্রের উচ্চতা বদলেছে, কোথাও ডাঙা উঠে এসেছে, কোথাও তলিয়ে গেছে জলের নিচে। তাই এমন মানচিত্র একটা বৈজ্ঞানিক পুনর্গঠন, ফটোগ্রাফ নয়।
গন্ডোয়ানা একেবারে ভিন্ন ধরনের প্রাণীদের গল্পকে এক সুতোয় বাঁধে, যেমন দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনোসরাস আর উত্তর আফ্রিকার স্পাইনোসরাস। দুজনেই বাস করত দক্ষিণের মহাদেশগুলোর মাটিতে, কিন্তু প্রত্যেকে নিজের জগতে: একজন পাতাগোনিয়ায়, অন্যজন উত্তর আফ্রিকার নদীর ধারে।
দক্ষিণের ডাইনোসররা এত আলাদা কেন
শুধু দক্ষিণ আমেরিকাতেই থাকত একেবারে ভিন্ন ধাঁচের শিকারিরা: অতিকায় গিগানোটোসরাস আর শিংওয়ালা কার্নোটরাস। তারা আলাদা দলের, বেঁচেও ছিল ক্রিটেসিয়াসের আলাদা পর্বে। দক্ষিণের মহাদেশগুলো কখনোই একই প্রজাতির তালিকা নিয়ে থমকে থাকা কোনো সংরক্ষিত বন ছিল না।
গন্ডোয়ানা যখন ভাঙছিল, সাগর তার টুকরোগুলোকে আলাদা করে দিচ্ছিল, তবে কিছু স্থলসংযোগ টিকে ছিল আরও অনেক দিন। বিবর্তনে প্রভাব ফেলেছিল জলবায়ু, উদ্ভিদ, খাবারও। ধারণা ছিল, প্রথম ডাইনোসররা এখানেই, দক্ষিণে জন্মেছিল, আর পরে ছড়িয়েছিল উত্তরে। কিন্তু 2025 সালে ওয়াইওমিংয়ে পাওয়া প্রায় 230 মিলিয়ন বছরের পুরোনো একটি জীবাশ্ম দেখাল, উত্তরেও তারা বাস করত প্রায় একই রকম আগে থেকে। ডাইনোসরদের জন্মভূমি কোথায়, সেই প্রশ্ন আবার খুলে গেছে।
আবিষ্কারের মানচিত্র কীভাবে পড়বেন
মানচিত্রের চিহ্নটি দেখায় সেই অঞ্চল, যেখানে কার্ডের প্রাণীটির জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। এর মানে এই নয় যে সে প্রাচীন উপকূলের ঠিক ওই বিন্দুতেই থাকত। আমাদের মানচিত্র দিক চেনার একটা নকশা মাত্র। কেউ গভীরে যেতে চাইলে তাঁর লাগবে ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র আর জীবাশ্মক্ষেত্রগুলোর বিবরণ।
আর তারিখটা খেয়াল করুন। মানচিত্রে গন্ডোয়ানাকে দেখানো হয়েছে মোটামুটি 160 মিলিয়ন বছর আগের অবস্থায়, যা খুব লম্বা এক চলচ্চিত্রের একটিমাত্র ফ্রেম। চেনা রেখাগুলোর আড়ালে লুকিয়ে আছে কয়েক কোটি বছরের ভাঙাগড়া।
প্রশ্নোত্তর
গন্ডোয়ানা কী?
দক্ষিণের এক প্রাচীন মহাদেশ, যাকে প্রায়ই সুপারমহাদেশ বলা হয়। এর মধ্যে ছিল ভবিষ্যতের দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, অ্যান্টার্কটিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশ আর আরও কিছু ছোট ভূখণ্ড।
গন্ডোয়ানা আর প্যানজিয়ার তফাত কী?
প্যানজিয়ায় জড়ো হয়েছিল পৃথিবীর প্রায় সব স্থলভাগ। গন্ডোয়ানা তার চেয়ে পুরোনো: এটি গড়ে ওঠে প্রায় 600–530 মিলিয়ন বছর আগে, ডাইনোসরদের ঢের আগে। পরে প্যানজিয়ার অংশ হয়ে যায়, আর প্যানজিয়া ভাঙার সময় আবার আলাদা হয়ে পড়ে।
তার ভূখণ্ডে কোন কোন ডাইনোসর বাস করত?
দক্ষিণ আমেরিকায় আর্জেন্টিনোসরাস, গিগানোটোসরাস আর কার্নোটরাস, উত্তর আফ্রিকায় স্পাইনোসরাস, আরও অনেকে। তারা থাকত ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে।
অ্যান্টার্কটিকাতেও কি ডাইনোসর ছিল?
হ্যাঁ, মেসোজোয়িকে সেখানে এখনকার চেয়ে অনেক উষ্ণ ছিল। ট্রান্সঅ্যান্টার্কটিক পর্বতমালায় পাওয়া গেছে আদি জুরাসিকের ডাইনোসর: মাথায় ঝুঁটিওয়ালা শিকারি ক্রায়োলোফোসরাস আর তৃণভোজী গ্লেসিয়ালিসরাস। বরফের কারণে আবিষ্কার এখনো হাতে গোনা।


