— ফিল্ড নোট নং 9 —
ডাইনোসরের পালক: জীবাশ্ম কী বলে
সংক্ষেপে উত্তর
একটা পায়রার দিকে তাকান: আপনি একটি ডাইনোসর দেখছেন, আর তার পালক এসেছে উত্তরাধিকারসূত্রে। পালকের ছাপ আর অন্যান্য চিহ্ন পাওয়া গেছে বহু অ-পাখি ডাইনোসরের জীবাশ্মে। এসব থেকে প্রাণীগুলোর চেহারা ফিরিয়ে আনা হয়, খোঁজা হয় পাখিরা এল কোথা থেকে। শুধু সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো করবেন না: পালক থাকলেই কেউ উড়তে পারে না।

পাথরে কী থেকে যায়
সবচেয়ে ভাগ্যের ব্যাপার, যখন পাথরে পালকটাই ছাপ রেখে যায়। দ্বিতীয় উপায় হাড়ে চিহ্ন খোঁজা: ভেলোসিরাপ্টরের সামনের পায়ের হাড়ে রয়ে গেছে সেই গুটিগুলো, যেখানে পালক আটকে থাকত। তবে ঢালাও সিদ্ধান্ত চলে না, প্রতিটি প্রজাতিকে আলাদা করে যাচাই করতে হয়। যেমন ছোট্ট কম্পসোগন্যাথাসের পালকের সরাসরি প্রমাণ এখনো মেলেনি।
আর্কিওপটেরিক্স টিকে আছে স্পষ্ট পালকসহ, সঙ্গে দাঁত, লম্বা হাড়ের লেজ আর ডানায় নখ। 2025 সালে শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের একটি নতুন, প্রায় সম্পূর্ণ নমুনার বর্ণনা প্রকাশিত হয়। তাতে প্রথমবার দেখা যায় বাহুর ওপরের অংশে লম্বা পালক, যা ডানা আর শরীরের মাঝের ফাঁক ঢেকে দিত, ঠিক উড়ুক্কু পাখিদের মতো। মনে হচ্ছে, সে শেষমেশ উড়তেই পারত।
চার ডানা আর পালকের অন্য কাজ
মাইক্রোরাপ্টরের লম্বা পালক গজাত সামনের আর পেছনের দুই জোড়া পায়েই, তাই তার ডাকনাম চার-ডানার ডাইনোসর। সে বাতাসে কীভাবে ভেসে থাকত, তা পরীক্ষা করা হয় মডেলে। প্রতিটি জোড়া ‘ডানা’র কাজ কী ছিল, পা দুটো সে কীভাবে মেলে রাখত, এসব নিয়ে কোনো সর্বসম্মত মত নেই।
পালককে যে উড়তেই হবে, এমন কোনো কথা ছিল না। পালক গা গরম রাখত, সঙ্গীর সামনে সাজ দেখাতে সাহায্য করত, ডিম ঢেকে রাখত। ওভিরাপ্টরের আত্মীয়দের পাওয়া গেছে একেবারে বাসার ওপর, ডিমে তা দেওয়া মুরগির ভঙ্গিতে। আর 2021 সালে চীন থেকে বর্ণনা করা হয় ডিমের ওপর বসা এক প্রাপ্তবয়স্ক ওভিরাপ্টোরিড, যার ডিমের ভেতরে টিকে আছে ফোটার প্রায় উপযুক্ত ভ্রূণ। অর্থাৎ সে শুধু ডিম পাহারা দিচ্ছিল না, তা দিচ্ছিল।
সবার গায়ে পালক এঁকে দেওয়া যায় না কেন
ডাইনোসরদের গায়ের আবরণ ছিল নানা রকম: কারও পাওয়া গেছে পালক বা সরু তন্তু, কারও আঁশওয়ালা চামড়া। পালকের ছাপ নেই মানেই পালক ছিল না, এমন নয়, কারণ নরম কলা কালেভদ্রে টেকে। পালকের মতো কাঠামো আছে ডাইনোসরদের আত্মীয় টেরোসরদেরও। তাই সবচেয়ে সরল পালক হয়তো দেখা দিয়েছিল দুই দলের সাধারণ পূর্বপুরুষের মধ্যেই। প্রশ্নটা এখনো খোলা।
সৎ পুনর্গঠন সবসময় আলাদা করে দেখায়, কী পাথরে পাওয়া গেছে আর কী আত্মীয়দের দেখে যোগ করা হয়েছে। আর শেষ কথা। পাখিরা শুধু ‘ডাইনোসরের মতো দেখতে’ নয়: তারা থেরোপড ডাইনোসরদের দলের সদস্য, আর সেই দলের ইতিহাস তারাই এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
প্রশ্নোত্তর
পাখিরা কি সত্যিই ডাইনোসর?
হ্যাঁ। বিবর্তনের আত্মীয়তার হিসাবে পাখিরা থেরোপড ডাইনোসরদের দলে পড়ে।
সব ডাইনোসরের গায়েই কি পালক ছিল?
এমন দাবি করা যায় না। অনেক প্রজাতির পালক জানা গেছে, অন্যদের পাওয়া গেছে আঁশ, আর নরম কলা এত কম টেকে যে সবার সম্পর্কে রায় দেওয়া সম্ভব নয়।
পালক কি ওড়ার জন্যই এসেছিল?
সব দেখে মনে হয়, না। আদি পালক সম্ভবত শরীরের তাপ ধরে রাখত আর স্বজাতির সামনে নিজেকে জাহির করতে কাজে লাগত। ওড়া এসেছে পরে।
আর্কিওপটেরিক্স পাখি, না ডাইনোসর?
দুটোই, কারণ পাখিরা নিজেরাই ডাইনোসর। প্রাচীনতম পাখিদের মধ্যে আর্কিওপটেরিক্স সবচেয়ে বিখ্যাত, তবে একমাত্র নয়: 2025 সালে চীনের জুরাসিক স্তর থেকে বর্ণনা করা হয় বামিনর্নিস, যার লেজ খাটো, ‘আধুনিক’ ধাঁচের।



