— ফিল্ড নোট নং 2 —
ভেলোসিরাপ্টর: আসল শিকারি আর পর্দার শিকারির তফাত
সংক্ষেপে উত্তর
সিনেমার দর্শক আসল ভেলোসিরাপ্টরকে সামনে দেখলে চিনতেই পারতেন না। এই শিকারি ছিল একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হাঁটু সমান: লেজসহ দুই মিটার লম্বা, নিতম্ব পর্যন্ত উচ্চতা আধা মিটার। গা ঢাকা ছিল পালকে, যদিও উড়তে পারত না। পর্দার চেহারা থেকে টিকে আছে বলতে গেলে শুধু পেছনের পায়ের বড় বাঁকানো নখটা।

কুকুরের মাপের শিকারি
ভেলোসিরাপ্টরের দুই মিটার দৈর্ঘ্য শুনে ভুল বুঝবেন না: এর বেশিটাই গলা আর লেজ, ধড়টা ছিল ছোট। ওজন 15–20 কিলোগ্রাম, সবচেয়ে বড়গুলো আরেকটু বেশি, অর্থাৎ মাঝারি আকারের একটা কুকুরের মতো। ‘জুরাসিক পার্ক’-এর মানুষ-সমান শিকারির সঙ্গে তার মিল কেবল নামে।
লম্বা লেজটা কাজ করত ভারসাম্য রাখার দণ্ড হিসেবে। দুই পেছনের পায়ের দ্বিতীয় আঙুলে ছিল কাস্তের মতো বাঁকা বড় একটা করে নখ। একটি অনুমান বলে, এ দিয়ে সে ছটফট করা শিকারকে চেপে ধরে রাখত।
পালকের কথা জানা গেল কীভাবে
2007 সালে ভেলোসিরাপ্টরের সামনের পায়ের উলনা হাড়ে সারি বেঁধে থাকা ছোট ছোট গুটি নজরে আসে। আজকের পাখিদেরও এমন গুটি আছে, পালক আটকে থাকে এগুলোতেই। ওই নমুনায় পালক নিজে টেকেনি, তবে গুটিগুলোই যথেষ্ট প্রমাণ। তার ওপর এর নিকটাত্মীয়দের পালকের ছাপ পাথরে পাওয়া গেছে।
ভেলোসিরাপ্টর ড্রোমিওসরিড পরিবারের সদস্য। আমাদের কার্ড-সংগ্রহে এই পরিবারের আরও দুজন আছে, ডাইনোনিকাস আর ইউটারাপ্টর, দুজনেই চোখে পড়ার মতো বড়। আত্মীয়, কিন্তু যমজ নয়: আকার আলাদা, বেঁচেও ছিল ভিন্ন ভিন্ন সময়ে।
বালিতে থমকে যাওয়া লড়াই
মঙ্গোলিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত আবিষ্কার দুটি জড়াজড়ি করা কঙ্কাল: একটি ভেলোসিরাপ্টর, অন্যটি প্রোটোসেরাটপস। নামও রাখা হয়েছে সেই মতো, ‘লড়াকু ডাইনোসর’। জীবাশ্মবিদের হাতে প্রায় সবসময় আসে একটা প্রাণী, আর এখানে পাথরে আটকে আছে একটা ঘটনা। হাড়ের অবস্থান দেখেই বোঝা যায় দুজন কীভাবে ধস্তাধস্তি করছিল।
খুব সম্ভবত লড়াইয়ের মাঝখানেই দুজনকে বালি চাপা দেয়। ঝগড়া কেন বাধল, কে আগে আক্রমণ করল, হাড় দেখে তা বলা যায় না। লড়াইটা প্রমাণিত সত্য। এর বাইরে যা-ই বলা হোক, তা হবে বানানো গল্প।
সিনেমার চেহারা এল কোথা থেকে
পর্দার ‘রাপ্টর’-রা উচ্চতায় ভেলোসিরাপ্টরের চেয়ে ডাইনোনিকাসের কাছাকাছি। তার ওপর বহু বছর তাদের দেখানো হয়েছে একটাও পালক ছাড়া। এই আত্মীয়দের সাজ আসলে কেমন হতে পারত, তার আভাস দেয় মাইক্রোরাপ্টর: তার লম্বা পালক গজাত এমনকি পেছনের পায়েও।
দল বেঁধে নিখুঁত তালমিলে শিকারও চিত্রনাট্যের কারসাজি, প্রমাণিত তথ্য নয়। বিলুপ্ত শিকারিদের কঙ্কাল সম্পর্কে আমরা যতটা জানি, অভ্যাস সম্পর্কে জানি তার তুলনায় নগণ্য। কয়েকটি প্রাণী পাশাপাশি পাওয়া গেলেই প্রমাণ হয় না যে বেঁচে থাকতে তারা একসঙ্গে শিকার করত।
প্রশ্নোত্তর
ভেলোসিরাপ্টর কত বড় ছিল?
লেজসহ প্রায় দুই মিটার লম্বা, নিতম্ব পর্যন্ত আধা মিটারের মতো উঁচু। ওজন 15–20 কিলোগ্রাম।
তার কি পালক ছিল?
ছিল। উলনা হাড়ে পালক আটকানোর গুটি রয়ে গেছে, ঠিক আজকের পাখিদের মতো।
সিনেমায় সে এত বড় কেন?
পর্দার ‘রাপ্টর’ আসলে বেশি মেলে ডাইনোনিকাসের সঙ্গে, যে তার বড়সড় আত্মীয়। আসল ভেলোসিরাপ্টর ছিল অনেক ছোটখাটো।
কাস্তের মতো নখটা কী কাজে লাগত?
সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তর: শিকার চেপে ধরে রাখতে। ঠিক কীভাবে সে নখটা ব্যবহার করত, তা নিয়ে গবেষণা চলছে।



