— ফিল্ড নোট নং 7 —
ট্রাইসেরাটপস: শিং, হাড়ের কলার আর ক্রিটেসিয়াসের শেষ অধ্যায়
সংক্ষেপে উত্তর
তিনটি শিং, চঞ্চু আর মাথার পেছনে হাড়ের ঢাল: জুরাসিক আর ক্রিটেসিয়াস যিনি গুলিয়ে ফেলেন, তিনিও ট্রাইসেরাটপসকে চেনেন। 8–9 মিটার লম্বা এই তৃণভোজী ডাইনোসর বাস করত উত্তর আমেরিকায়, ক্রিটেসিয়াস যুগের একেবারে শেষে, টাইরানোসরাসের পাশাপাশি। দেখতে সে কেমন ছিল, তা ভালোই জানা। শিং আর কলার কী কাজে লাগত, আর সে কেমন আচরণ করত, সেখানে নিশ্চয়তা কম।

টাইরানোসরাসের প্রতিবেশী
এবার সিনেমার দ্বৈরথ মোটেও বানানো নয়: ট্রাইসেরাটপস আর টাইরানোসরাস সত্যিই একই সময়ে একই জায়গায় থাকত। তাদের হাড় পাওয়া যায় একই পাললিক স্তরে, যেমন হেল ক্রিক ফর্মেশনে। ট্রাইসেরাটপসের হাড়ে টাইরানোসরাসের দাঁতের দাগও মেলে, অর্থাৎ শিকারির খাদ্যতালিকায় সে ছিল।
পূর্ণবয়স্ক ট্রাইসেরাটপস লম্বায় হত 8–9 মিটার। হাঁটত চার পায়ে, চঞ্চু দিয়ে গাছপালা কেটে নিত, আর ঘন সারিতে সাজানো দাঁতে পিষে ফেলত। বিখ্যাত মাথাটার দিকে তাকিয়ে বাকি শরীর চোখ এড়িয়ে যায়, অথচ ধড়টা ছিল বিশাল, অস্ত্রশস্ত্রের সঙ্গে মানানসই।
শিং আর কলার কেন
চোখের ওপরে দুটি লম্বা শিং, তৃতীয়টি নাকে, পেছনে হাড়ের কলার। আত্মীয়দের মধ্যে একই নকশা অন্যভাবে গড়া: যেমন স্টাইরাকোসরাস তার কলার সাজিয়েছিল লম্বা লম্বা কাঁটায়।
শিং দিয়ে শিকারিকে ঠেকানো যেত, প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে গুঁতোগুঁতি করা যেত, আর নজরকাড়া মাথা স্বজাতির সঙ্গে যোগাযোগে কাজে লাগত। পালের নেতৃত্ব নিয়ে লড়াই হাড় দেখে ফিরিয়ে আনা যায় না, তবে দল বেঁধে থাকার প্রমাণ আছে। ওয়াইওমিংয়ে খুঁড়ে পাওয়া গেছে অন্তত পাঁচটি ট্রাইসেরাটপস, যারা একসঙ্গে মারা গিয়েছিল। দাঁতের রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তারা ঘুরে বেড়াত একই এলাকায়। এমন দল কীভাবে গড়া ছিল, তা অজানা।
শিংওয়ালা আত্মীয়রা
ট্রাইসেরাটপসের দল সেরাটোপসিয়ানরা সবসময় লম্বা শিংয়ের দানব ছিল না। মঙ্গোলিয়ার প্রোটোসেরাটপস অনেক ছোট, চোখের ওপরের শিংজোড়া তার একেবারেই নেই। আত্মীয়তা কাছের, অথচ প্রথম দেখায় মিল সামান্যই।
ট্রাইসেরাটপসকে সবচেয়ে বেশি তুলনা করা হয় টোরোসরাসের সঙ্গে, যার কলারে বড় বড় ছিদ্র। 2010 সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে টোরোসরাস আসলে খুব বুড়ো ট্রাইসেরাটপস। পরীক্ষায় সে অনুমান টেকেনি: 2022 সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক টোরোসরাসের দেহাবশেষের বর্ণনা প্রকাশিত হয়, আর বাচ্চাদের তো ‘বার্ধক্যের দশা’ থাকতে পারে না। আজ এদের আলাদা গণ বলে ধরা হয়। প্রশ্নটা অবশ্য অযৌক্তিক ছিল না, কারণ বয়সের সঙ্গে ডাইনোসরদের হাড় অনেকখানি বদলে যেত।
প্রশ্নোত্তর
ট্রাইসেরাটপসের শিং কী কাজে লাগত?
সম্ভবত একসঙ্গে কয়েকটা কাজে: শিকারিকে ঠেকাতে আর স্বজাতির সঙ্গে বোঝাপড়া মেটাতে। এর মধ্যে কোনটা প্রধান, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সে কি স্টেগোসরাসের সমসাময়িক ছিল?
না। স্টেগোসরাস বাস করত শেষ জুরাসিকে, ট্রাইসেরাটপস ক্রিটেসিয়াসের একেবারে শেষে। দুজনের মাঝে কয়েক কোটি বছরের ফারাক।
ট্রাইসেরাটপস আর টোরোসরাস কি একই প্রাণী?
এখনকার তথ্য অনুযায়ী না, এরা আলাদা গণ। টোরোসরাস আসলে বুড়িয়ে যাওয়া ট্রাইসেরাটপস, 2010 সালের এই অনুমান পরের গবেষণাগুলো সমর্থন করেনি।
সে কি টাইরানোসরাসের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারত?
পারত। এত বড় শরীর আর শিং নিয়ে পূর্ণবয়স্ক ট্রাইসেরাটপস ছিল বিপজ্জনক শিকার, তবে এমন মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল আগে থেকে কেউ বলতে পারত না।


